যুক্তরাজ্যের এবারের সাধারণ নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থী

যুক্তরাজ্যের এবারের সাধারণ নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থী

আগামী ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন। যা প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে আগে। অনুমান করা হয়েছিল অক্টোবর নাগাদ ভোট হবে কিন্তু তা হয়নি। ভোটের সময়, নির্বাচনী ইস্যুসহ একাধিক কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাজ্যের এবারের সাধারণ নির্বাচন।

এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থীও। 
ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডজুড়ে ৬৫০টি নির্বাচনী এলাকায় ৪ হাজার ৫০০ এরও বেশি প্রার্থী লড়াই করবেন। ফলে দেখা যাচ্ছে, ২০১৯ সালের তুলনায় আগামী ৪ জুলাইয়ের নির্বাচনে ৩৫.৭ শতাংশ প্রার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে। 

প্রাথমিকভাবে যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকের প্রার্থী সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে ৬০৯ জন প্রার্থীকে মাঠে নামাচ্ছে দলটি, যেখানে গত নির্বাচনে ছিল ৩৩২জন। ২০১৯ সালে রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজ বরিস জনসনের রক্ষণশীলদের জন্য ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাবার প্রক্রিয়া) সুরক্ষিত করতে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে ৩০০ টিরও বেশি আসনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে ফারাজ এই নির্বাচনে কনজারভেটিভ এবং ইউনিয়নিস্ট পার্টি সঙ্গে অনুরূপ চুক্তি বাতিল করেছেন।
গ্রিন পার্টি থেকেও পূর্বের তুলনায় আরো বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে যাচ্ছে।

গত নির্বাচনের চেয়ে ১৩১ জন বেশি প্রার্থীকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছে দলটি। 
এদিকে জর্জ গ্যালোওয়ের নেতৃত্বে ব্রিটেনের ওয়ার্কার্স পার্টিও ১৫২ জন প্রার্থী নিয়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র ও ছোট দলের প্রার্থীর সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। মোট মিলিয়ে এবারের সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা (৪৫১৫জন) ২০১০ সালের নির্বাচনের (৪১৫০ জন) প্রার্থীর রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

 শেফিল্ড ইউনিভার্সিটির রাজনীতির অধ্যাপক ম্যাথিউ ফ্লিন্ডার্স বলেছেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থী বৃদ্ধির অর্থ, পরবর্তী সরকারের পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার সম্ভবনা কম এবং নির্বাচনের মধ্যবর্তী সমযে ঘন ঘন রাজনৈতিক পরিবর্তন দেখতে পাবে।


অধ্যাপক ফ্লিন্ডার্স বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে এর চেয়ে আরো বেশি প্রার্থী দেখা যেতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘দুটি প্রধান দলের ক্ষমতা খুব বেশি প্রসারিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, তবে ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে তারা। সুতরাং নতুন বিরোধী দল এবং আরো স্বতন্ত্র দলগুলো মাঠে নামছে।’

লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির রাজনীতির অধ্যাপক টিম বেল বলেছেন, ‘কার্যত যুক্তরাজ্যসহ প্রতিটি ইউরোপীয় দেশ তাদের দলের মধ্যে বিভাজন দেখেছে।’  তিনি বলেন, ‘আজকাল আগের তুলনায় ভোটারদের মধ্যে আনুগত্য বা বশ্যতাপূর্ণ আচরণ কমই লক্ষ্য করা যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে সম্ভবত পুরানো দলগুলো তাদের সঠিক বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়।’ 

তিনি আরো বলেছেন, ‘যেহেতু ভোটাররা দল বদল করে খুশিই হয়েছেন তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আরো নতুন দল এলে অনিবার্যভাবে আরো প্রার্থী সংখ্যাও বাড়বে।’

এদিকে আসন্ন যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে পার্লামেন্ট প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্রিটিশ ফিলিস্তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মূলত গাজায় চলমান যুদ্ধ, ইসরায়েলের প্রতি লেবার ও রক্ষণশীলদের সমর্থন তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রিটিশ ফিলিস্তিনি প্রার্থীদের প্রচারণার প্রধান বিষয় ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষার লড়াই এবং স্বদেশে সংঘটিত অপরাধের অবসান হলেও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে তাদের জীবনযাত্রার মান হ্রাসের ওপর ফোকাস করেছেন। 

শিশু নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ব্যাপক আন্দোলন তুরস্কে, এরদোগানের হুশিয়ারি পরবর্তী

শিশু নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ব্যাপক আন্দোলন তুরস্কে, এরদোগানের হুশিয়ারি

কমেন্ট