কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী
রুশ বিমানঘাঁটিতে কিয়েভের হামলার জবাব দিলেন পুতিন
রাশিয়া স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও ৪৯ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি।
আকাশপথে চালানো এই হামলার লক্ষ্য ছিল কিয়েভ, পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম ইউক্রেনের লুতস্ক শহর ও টার্নোপিল অঞ্চল। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলা ছিল ‘কিয়েভ শাসকগোষ্ঠীর সন্ত্রাসী হামলার’ প্রতিক্রিয়া এবং তারা সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘এই মুহূর্তে’ হামলায় তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে, যারা ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবায় কর্মরত ছিলেন। হামলায় ৪০০টির বেশি ড্রোন ও ৪০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে জানিয়ে আহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এর আগের এক বিবৃতিতে কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো রাজধানীতে চারজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
এদিন কিয়েভে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল, আর বোমার আঘাতে মেট্রোর রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরের ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
রাজধানীর হাজার হাজার মানুষ কয়েক ঘণ্টা ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে উদ্বেগে কাটায়। শহরের কেন্দ্র থেকে ভারী মেশিনগানের টানা গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। কারণ শহরের প্রান্তে অবস্থানরত প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোন ভূপাতিত করার চেষ্টা করছিল। কখনো কখনো আকাশে ড্রোনের গুঞ্জনের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
কখনো উজ্জ্বল আলো ঝলসে উঠত, যা কাছের ভবনের জানালায় প্রতিফলিত হতো, এরপর পাঁচ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যেত।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় ৩৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে, যেগুলো ইউক্রেন ‘স্পাইডারস ওয়েব’ অভিযানে রবিবার রাশিয়ার ওপর চালানো হামলায় লক্ষ্য করেছিল। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে একটি বার্তা।
খারকিভ, সুমি ও লুহানস্ক শহরেও বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। টার্নোপিলের সামরিক প্রধান ভিয়াচেস্লাভ নেগোডা বলেন, শুক্রবারের হামলা ছিল ‘আমাদের অঞ্চলের ওপর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিমান হামলা।
’ টার্নোপিল শহরের মেয়র ইগর পোলিশচুক জানান, এই হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছে এবং বাড়িঘর, স্কুল ও একটি সরকারি স্থাপনায় ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে লুতস্ক শহরে মেয়র ইহর পোলিশচুক জানান, সেখানে ১৫টি ড্রোন ও ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চালানো এক হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছে।
বিমানঘাঁটিতে হামলার জবাব?
এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হলো, যখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, রুশ বিমানঘাঁটিতে ইউক্রেনের চালানো সাম্প্রতিক হামলার জবাব তিনি দেবেন।
শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘এখনই সেই মুহূর্ত, যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও বিশ্ব একত্রে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এই যুদ্ধ থামাতে পারে।’
তিনি রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্পের দৃশ্যত নমনীয় অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘যদি কেউ চাপ প্রয়োগ না করে এবং যুদ্ধকে আরো বেশি সময় দিয়ে প্রাণহানি ঘটতে দেয়, তবে সেটি জড়িত থাকা ও দায়বদ্ধতা—দুই-ই।’ জেলেনস্কি আরো লেখেন, ‘আমাদের এখনই দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।’
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেনের চালানো হামলায় তারা রাশিয়া ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার বিভিন্ন অংশে ১৭৪টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কৃষ্ণসাগরের ওপর দিয়ে ছোড়া নেপচুন জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে বলেও জানায় তারা।
এর আগে কিয়েভ রাশিয়ার অন্তত চারটি সামরিক ঘাঁটিতে ৪০টি যুদ্ধবিমানের ওপর তাদের সবচেয়ে বড় দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালায়। জেলেনস্কি বলেন, নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ পরিচালিত ‘স্পাইডারস ওয়েব’ অভিযানে ১১৭টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়, যা রাশিয়ার ‘কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রবাহী বিমানগুলোর ৩৪ শতাংশ’কে আঘাত করে।
অন্যদিকে এই মাসের শুরুতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ইস্তাম্বুলে সরাসরি শান্তি আলোচনা হয়েছিল, তবে তা উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। ইউক্রেনের আলোচকরা বলেন, রাশিয়া একটি ‘নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি’ প্রত্যাখ্যান করেছে, যা কিয়েভ ও তার পশ্চিমা মিত্রদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মূল দাবি।
রাশিয়ার আলোচকরা বলেন, তারা ‘বিশাল যুদ্ধক্ষেত্রের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায়’ দুই বা তিন দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ট্রাম্প বলেন, বুধবার এক ঘণ্টার বেশি সময়ের ফোনালাপে পুতিন তাকে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক বিমানঘাঁটিতে হামলার জবাবে তিনি ‘অত্যন্ত কঠোরভাবে’ প্রতিক্রিয়া জানাবেন।
মস্কো আগে বলেছিল, ইউক্রেনের হামলার জবাবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা ‘চূড়ান্ত বিবেচনায় রয়েছে’।
এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, যদি তিনি মনে করেন পুতিন তাকে শান্তি আলোচনার নামে শুধু সময়ক্ষেপণ করছেন, তবে রাশিয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া বদলে দিতে তিনি দুই সপ্তাহের সময়সীমা দিচ্ছেন।
কমেন্ট