আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না; একটা মাফিয়া পার্টি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কিম বিদেশ গেলেই দেশে ‘কারফিউ’
সর্বোচ্চ নেতা কিম জন উনের চীন ভ্রমণকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড বাঁধিয়ে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। কড়াকড়ি হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সীমিত করা হয়েছে জনগণের চলাফেরা। ‘বিশেষ অবস্থা’ জারি করা হয়েছে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মোটকথা দেশটির অভ্যন্তরে পরিস্থিতি এমন যে কেউ ‘টু শব্দ’টি করতে পারবে না। রীতিমতো শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় থাকবে পুরো দেশ। কিমের বিদেশ ভ্রমণ মানেই দেশে ‘কারফিউ’র মতো এই অচলাবস্থা উত্তর কোরিয়ায় নতুন নয়। এপি।
সোমবার একটি বুলেটপ্রুফ ট্রেনে চীনে রওয়ানা দেন কিম। সেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত বেইজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দিতে গিয়েছেন তিনি। তার চীন সফর উপলক্ষ্যে ৩০ আগস্ট রাত ৮টা থেকে ১১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত বিশেষ অবস্থা জারি করা হয়েছে সারা দেশে। এ সময় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ছাড়া অন্য এলাকায় যাতায়াত বা অফিসিয়াল সফরের অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ভ্রমণ পারমিট ও বিশেষ অনুমোদন (যেমন: পিয়ংইয়ং প্রবেশ বা গোপন স্থাপনায় প্রবেশ) প্রদান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বেশি কড়াকড়ি করা হয়েছে দেশটির সীমান্তবর্তী অঞ্চল উত্তর পিয়ংয়ান প্রদেশের সিনুইজুতে। মোড়ে মোড় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বাসিন্দাদের রাতের বেলা চলাফেরা, অতিথি আপ্যায়ন, জমায়েত এবং মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই পথেই চীনে ঢুকেছেন কিম জং উন। ফিরবেনও এই পথেই।
কিমের সফরের আগে ২৮-৩০ আগস্টের মধ্যে রেল মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিভাগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে সারা দেশের রেলপথ, সেতু, রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করে নতুন নিরাপত্তা বলয় বসিয়েছে। বিশেষ করে সিনুইজু অঞ্চলে সোকহা স্টেশন, সাউথ সিনুইজু স্টেশন, সিনুইজু ইয়ুথ স্টেশন এবং চীন-উত্তর কোরিয়া মৈত্রী সেতুর (ইয়ালু নদী সেতু) চারপাশে প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ৩১ আগস্ট রাত থেকে ইয়ালু নদী সীমান্ত এলাকায় ‘দেখামাত্র গুলি’ করার নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। একজন স্থানীয় সূত্র জানান- ‘রেলস্টেশনগুলোতে প্রবেশ-প্রস্থান পথ একীভূত করা হয়েছে, বিপজ্জনক বস্তু পরীক্ষা করা হচ্ছে, প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েটিং রুমে সিসিটিভি তদারকি চালু হয়েছে। পাশাপাশি রেলওয়ে ও সেতুর আশপাশে নতুন করে পার্কিং নিষিদ্ধ এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’ এছাড়া সিনুইজু শহরে পণ্যবাহী ট্রাকের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহার ঠেকাতে সিগন্যাল-ব্লকিং যন্ত্র ব্যবহার করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। ধারণা করা হচ্ছে, এটি কিম জং উনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য বাইরে ফাঁস হওয়া রোধে করা হচ্ছে।
পাশাপাশি রেলপথ ও সড়কের আশপাশে সৌন্দর্যবর্ধন কাজ, পোস্টার ও প্রচারসামগ্রী লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিনুইজুর বিপরীতে অবস্থিত চীনের দানদং শহরেও একই ধরনের কড়া নিরাপত্তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ৩০ আগস্ট মৈত্রী সেতুর আশপাশ থেকে সব ব্যবসায়ী সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ১ সেপ্টেম্বর সকালে ইয়ালু নদীর পাশে বাঁশের বেড়া ও ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। এগুলোতে ‘নির্মাণ এলাকা প্রবেশ নিষেধ’ লেখা হয়েছে। দানদং স্টেশনের আশপাশেও ব্যারিকেড বসানোর প্রস্তুতি চলছে। একজন চীনা সূত্র জানান, শহরের সর্বত্র বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাদা পোশাকের নিরাপত্তাকর্মীরা টহল দিচ্ছেন।
কমেন্ট