চীনের ঘোর আপত্তি উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র-তাইওয়ান ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি

চীনের ঘোর আপত্তি উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র-তাইওয়ান ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি

তাইওয়ান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো শুল্ক কমানোর পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। 

এই চুক্তির অধীনে তাইওয়ানের পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। মূলত বাণিজ্যিক ঘাটতি দূর করতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে ভারসাম্য আনতেই এই শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। বিনিময়ে তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তাদের চিপ উৎপাদন ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চিপ উৎপাদন শিল্পে তাইওয়ানের আধিপত্য দীর্ঘকাল ধরে দেশটির জন্য একটি ‘সিলিকন শিল্ড’ বা সুরক্ষা কবজ হিসেবে কাজ করছে। এই সক্ষমতার কারণেই চীন থেকে সম্ভাব্য আক্রমণ বা অবরোধের মুখে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে রক্ষা করতে আগ্রহী থাকে বলে মনে করা হয়। 


তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র চাচ্ছে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির একটি বড় অংশ যেন আমেরিকার ভেতরেই উৎপাদিত হয়। তাইওয়ানের অর্থমন্ত্রী কুং মিং-হসিন শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই চুক্তির পরও তাইওয়ান বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদক হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখবে।

অনুমান করা হয় ২০৩০ সাল নাগাদ উন্নত এআই চিপ উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ৮৫ শতাংশ থাকবে তাইওয়ানের হাতে এবং ১৫ শতাংশ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রে। ২০৩৬ সাল নাগাদ এই অনুপাত ৮০-২০ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়লেও প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে তাইওয়ানের গুরুত্ব বজায় থাকবে। 

তবে এই বাণিজ্য চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই চুক্তির 'দৃঢ় বিরোধিতা' করছে, কারণ চীন তাইওয়ানকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করে থাকে।

 

সাময়িক বন্ধ রাখার পর আবারো আকাশসীমা খুলে দিল ইরান পরবর্তী

সাময়িক বন্ধ রাখার পর আবারো আকাশসীমা খুলে দিল ইরান

কমেন্ট