সৌদিতে থাকা ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেওয়া হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
৯টি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যোগ দিচ্ছে বায়ুশক্তি প্রকল্পে
নরওয়ে, জার্মানি, নেদারল্যান্ডসসহ মোট ৯টি ইউরোপীয় দেশের সাথে যুক্তরাজ্য উত্তর সাগরে একটি বড় নতুন সমুদ্রের বায়ুশক্তি প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে। দেশটির সরকার আশা করছে, এটি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াবে।
প্রথমবারের মতো, এই বায়ু খামারের বিদ্যুৎ সমুদ্রের তলদেশে বসানো তারের মাধ্যমে একাধিক দেশের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এই তারের নেটওয়ার্ককে বলা হয় ‘আন্তঃসংযোগকারী’।
সমর্থকরা মনে করেন, এতে পুরো অঞ্চলে বিদ্যুতের দাম কমবে। নতুন বায়ু খামার থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ একাধিক দেশে বিক্রি করা হবে। যে দেশ বেশি দাম দেবে, তার কাছে বিক্রি হবে। তাই অনেকে ভাবছে—এভাবে বিক্রি করলে কোথাও কোথাও বিদ্যুতের দাম বেশি হয়ে যেতে পারে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জার্মানির হামবুর্গে এক বৈঠকে যুক্তরাজ্যের জ্বালানিসচিব এড মিলিব্যান্ড একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করবেন। এতে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রকল্প সম্পূর্ণ করা হবে। শিল্প সংস্থা রিনিউয়েবলইউকের ডেপুটি সিইও জেন কুপার বলেন, এই প্রকল্প গ্রাহকদের খরচ কমাবে এবং যুক্তরাজ্যসহ পুরো উত্তর সাগরের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াবে। তবে বিরোধী দলের জ্বালানিবিষয়ক সচিব ক্লেয়ার কাউন্টিনহো সতর্ক করে বলেন, বায়ু খামার দ্রুত তৈরি করার তাড়াহুড়ো শক্তির বিল বাড়াচ্ছে।
ইউরোপের বেশির ভাগ দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে ইতিমধ্যেই এমন কয়েকটি আন্তঃসংযোগকারী তার সংযুক্ত। যুক্তরাজ্যে এর আগে ১০টি তার বসানো হয়েছে। তবে একাধিক দেশের সাথে সরাসরি বায়ু খামার সংযুক্ত করার এটি প্রথম চেষ্টা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশে দেশে বিদ্যুৎ গ্রিড আরো সংযুক্ত হলে খরচ কমবে এবং সরবরাহ নিরাপদ হবে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় গ্রিডের গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের সংযোগ বিদ্যুতের নেটওয়ার্কের চাপ কমাতে সাহায্য করে।
২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের গ্রাহকরা ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত কয়েকটি কেবলের মাধ্যমে ১.৬ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় পেয়েছেন। তবে নরওয়েতে কিছু বিতর্ক রয়েছে— বিদেশে বিদ্যুৎ বিক্রি হলে নরওয়েজিয়ান গ্রাহকদের সরবরাহ কমতে পারে এবং দাম বাড়তে পারে। এ জন্য সরকার নতুন নিয়ম নিয়ে রপ্তানি সীমিত করছে।
উত্তর সাগরের দেশগুলো তিন বছর আগে ৩০০ গিগাওয়াট ক্ষমতার সমুদ্রের বায়ু শক্তি তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, মোট ১০০ গিগাওয়াট ক্ষমতা তৈরি হবে, যার মধ্যে ২০ গিগাওয়াট ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে।
বিশ্বে সমুদ্রতীরবর্তী বায়ু শক্তিতে চীন সর্বোচ্চ, ৮৩ গিগাওয়াটের মধ্যে ৪৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারযোগ্য। যুক্তরাজ্য দ্বিতীয় স্থানে, যেখানে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৬ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ চালু। সরকার আরো ২০ গিগাওয়াট ক্ষমতার জন্য চুক্তি করেছে। খরচ বেশি হওয়ায় কয়েকজন সমালোচক এই প্রকল্পের সমালোচনা করেছেন। তবে লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও গ্রিন দল পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তি সম্প্রসারণের পক্ষপাতী। এসএনপি ও প্লেইড সাইমরুও এই বায়ু শক্তি সম্প্রসারণকে সমর্থন করছে, তবে তারা চায় স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের শক্তি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকুক।
কমেন্ট