জনকল্যাণের বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে, তারা জনগণের বন্ধু নয় : প্রধানমন্ত্রী
হরমুজে দীর্ঘ অস্থিরতায় চাপের মুখে উপসাগরীয় অর্থনীতি
গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতি বর্তমানে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতার- এই দেশগুলো বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস মজুতের ওপর দাঁড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে আছে।
তবে এখন বড় সংকট তৈরি হয়েছে উৎপাদনে নয়, বরং রপ্তানি ব্যবস্থায়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লেও নিরাপত্তাজনিত কারণে সেগুলো সহজে ও নিরাপদভাবে বাইরে পাঠানো যাচ্ছে না।
এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে এসব দেশের আয় ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়,বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস-এর হিসাবে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলো প্রতিদিন প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মূল কারণ হলো, তেল পরিবহন ও সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, এই পরিস্থিতি যদি কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে অব্যাহত থাকে, তাহলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বরং বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই অঞ্চল থেকেই আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘদিনের শক্তি হলো এই অঞ্চলকে একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আস্থাও কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
এ কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো পরিস্থিতি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থিতিশীল থাকে।
কমেন্ট