কুরবানির পশুবাহী যানবাহনে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর ইইউ নতুন নিষেধাজ্ঞা
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর ইইউ নতুন নিষেধাজ্ঞা
ছবি : রয়টার্স
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে জড়িত কিছু ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সংগঠনের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
সোমবার ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। নিষেধাজ্ঞার আওতায় কয়েকজন ব্যক্তি, কিছু সংগঠন এবং হামাসের সদস্যদেরও রাখা হয়েছে। তবে কারা এই তালিকায় রয়েছে, তা এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে লিখেছেন, ‘কাজটি হয়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আজ পশ্চিম তীরে চরমপন্থী ও সহিংস বসতি সম্প্রসারণকে সমর্থন করার জন্য দোষী প্রধান ইসরায়েলি সংগঠন এবং তাদের নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।’
তিনি আরো বলেছেন, ‘সবচেয়ে গুরুতর ও অসহনীয় এসব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’ ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাসও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি এক্স-এ বলেন, ‘অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবায়নের পথে এগোনোর এটাই উপযুক্ত সময় ছিল। চরমপন্থা ও সহিংসতার পরিণতি রয়েছে।’
এটি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ইইউর তৃতীয় দফার নিষেধাজ্ঞা। গত বছর এই প্রস্তাব দেওয়া হলেও হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের বিরোধিতার কারণে তা আটকে ছিল।
পরে হাঙ্গেরিতে নতুন সরকার আসার পর আর বাধা না থাকায় নিষেধাজ্ঞাটি অনুমোদন পায়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ থেকে শেষ মুহূর্তে বাদ দেওয়া হয়েছে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী দুই মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচকে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইইউভুক্ত দেশগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করতেই তাদের বাদ দেওয়া হয়।
এই দুই মন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো ও নতুন বসতি স্থাপনের পক্ষে কাজ করে আসছেন। তাদের সমর্থিত ই-১ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে বলে সমালোচকদের আশঙ্কা।
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের বাড়তে থাকা হামলার মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইইউ। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ইউএনওসিএইচএ জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে বসতি স্থাপনকারীরা প্রায় ৭৬০টি হামলা চালিয়েছে। এতে হতাহত ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অন্তত ১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা আরো বেড়েছে। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনার মধ্যেও পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইইউ এখন অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে তৈরি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাবও বিবেচনা করছে। এ ছাড়া স্পেনের নেতৃত্বে ইইউ-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিতের বিষয়েও আলোচনা চলছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সা’র এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘স্বেচ্ছাচারী ও জঘন্য’ বলে সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, ইসরায়েল পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনের অধিকারকে সমর্থন করে যাবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ও সেখানে নির্মিত বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েল জর্ডানের কাছ থেকে পশ্চিম তীর দখল করে। বর্তমানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের বসতিগুলোতে প্রায় সাত লাখ ইসরায়েলি বসবাস করছেন।
কমেন্ট