হিজবুল্লাহর কাছে পরাজয় থেকে ইসরাইলকে অবশ্যই শিক্ষা নিতে হবে: ইসমাইল ঘানি

হিজবুল্লাহর কাছে পরাজয় থেকে ইসরাইলকে অবশ্যই শিক্ষা নিতে হবে: ইসমাইল ঘানি

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল ঘানি সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর কাছে পরাজয় থেকে ইসরাইলকে অবশ্যই শিক্ষা নিতে হবে। 

শুক্রবার (১৯ জুন) গভীর রাতে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গাজারও নিজস্ব প্লাবন রয়েছে। আমরা যখন বলেছিলাম হিজবুল্লাহর কাছে ‘মিরাসাদ’ (ড্রোন) আছে, তখন আপনারা পাত্তা দেননি এবং ফাঁদে পড়েছেন। এই একশত হতাহতের জবাব কে দেবে?’ 

ঘানি আরও বলেন, ‘গাজারও নিজস্ব প্লাবন রয়েছে। আপনারা যদি আপনাদের রাজনীতিবিদদের ইচ্ছা অনুযায়ী চলেন, তবে ঝড়ের কবলে পড়বেন। সতর্ক থাকুন।’ 

‘মিরাসাদ’ হলো একটি ছোট চালকবিহীন আকাশযান যা লেবাননের প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করে থাকে।

উল্লেখ্য, মিরাসাদ ইরানের একটি ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানেরও নাম। ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলের মদদপুষ্ট এমকেও বাহিনীর একটি আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছিল ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। সেই অভিযানে শত্রুপক্ষের ৪,৮০০-এরও বেশি সেনা হতাহত হয় এবং ১২০টি ট্যাংক ও ৪০০টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছিল।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক একটি অভিযানে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় একটি ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আলেকজান্ডার ফিলিন নামে এক ইসরাইলি সেনা নিহত এবং আরও সাতজন আহত হন। 


পৃথক আরেকটি হামলায়, রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমার আঘাতে আরেকটি ইসরাইলি বাহিনী লক্ষ্যবস্তু হয়, যেখানে চারজন সেনা আহত হন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হিজবুল্লাহ সম্প্রতি লেবাননের অধিকৃত অঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে। 

গত শুক্রবার হিজবুল্লাহ প্রতিরোধ আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল শেখ নাঈম কাসেম বলেন, ‘আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না, আর এটিই বিজয়ের একটি অপরিহার্য উপাদান।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘শত্রু যখন আমাদের দিকে অস্ত্র তাক করবে, আমরাও অস্ত্রের মাধ্যমেই তার মোকাবিলা করব।’ 

কাসেম যুক্তি দেখিয়ে বলেন যে, প্রতিরোধ নিজেই বিজয়ের একটি রূপ। দখলদারিত্বকে প্রত্যাখ্যান করার প্রতিটি পদক্ষেপই একেকটি বিজয়। 

এদিকে, সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও লেবানন সীমান্তে ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর এই যুদ্ধ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। 

পাকিস্তান ‘ফ্রাংকেনস্টাইন রাষ্ট্র’, জাতিসংঘে হাইকমিশনের সভায় ভারতের তোপ পরবর্তী

পাকিস্তান ‘ফ্রাংকেনস্টাইন রাষ্ট্র’, জাতিসংঘে হাইকমিশনের সভায় ভারতের তোপ

কমেন্ট