যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাত

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাত

ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও রাতভর ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা অব্যাহত রেখেছে।


ফলে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো চলমান সংঘাত আরো তীব্র হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন এবং অঞ্চলের আরো কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে তারা বিভিন্ন স্থানে টানা ছয় ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, দেশটিকে ভালো আচরণ করতে হবে, অন্যথায় আরো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।


তিনি বলেছেন, তেহরান আলোচনায় না ফিরলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে।
এদিকে ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা না হলে কোনো চুক্তি মেনে চলার কারণ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের বিভিন্ন কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।


এর মধ্যে বন্দরনগরী বান্দার আব্বাস এবং বৃহত্তর তুনব দ্বীপও রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং তেহরানে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর কুয়েত ও বাহরাইন হামলার খবর দেয়।
কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা একটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের সর্বশেষ হামলায় জর্দানে অবস্থিত মার্কিন যোগাযোগব্যবস্থা এবং জ্বালানি মজুদ কেন্দ্রগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান সেখানে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ পুনর্বহাল করেছে, যা আগে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার আওতায় সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছিল।

পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে যখন, যুক্তরাষ্ট্র কুরাকাওয়ের পতাকাবাহী একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারে গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেয়। সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি ইরানের একটি অবরুদ্ধ বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে তেল ও গ্যাস রপ্তানির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পথও প্রভাবিত হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান বিরোধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ট্যাংকার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। তবে সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগের কিছু ইঙ্গিত দেখা গেছে। ট্রাম্প তেহরানের পক্ষ থেকে আসা একটি সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এর অংশ হিসেবে একজন মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যাকে ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছিল।

বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই সদিচ্ছার নিদর্শনের প্রশংসা করে।’ তার আইনজীবী জ্যারেড জেনসার জানান, মুক্তিপ্রাপ্ত নারী ডেনা কারারি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে রয়েছেন।

ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলার ইতি টানতে তৎপর পাকিস্তান পরবর্তী

ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলার ইতি টানতে তৎপর পাকিস্তান

কমেন্ট