আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে: প্রধানমন্ত্রী
ইরানে হামলা স্থগিত হলেও মার্কিন বাহিনী জবাব দিতে ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’: হেগসেথ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পূর্বপরিকল্পিত হামলা স্থগিত করে নতুন করে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিলেও, দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
সোমবার (৩ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হেগসেথ বলেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এমন মাত্রায় জবাব দিতে প্রস্তুত, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি।
তিনি লেখেন, সত্যি বলতে, যুদ্ধ দপ্তর (প্রতিরক্ষা দপ্তর) পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল এবং এখনও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতি নিয়ে আছে। আমরা যেকোনো মুহূর্তে হামলার জন্য প্রস্তুত (লকড অ্যান্ড লোডেড)।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিবেচনাধীন সামরিক অভিযানের মূল্যায়নেরই পুনরাবৃত্তি করেছেন। ট্রাম্পের আগের মন্তব্যের প্রতিধ্বনি করে হেগসেথ বলেন, আমরা এমন একটি হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা হতো। এটি তাদের (ইরানের) জন্য চরম ধ্বংসাত্মক হতো।
তার এই মন্তব্য ওয়াশিংটনের সেই অবস্থানকেই স্পষ্ট করে যে—কূটনীতি তাদের পছন্দের বিকল্প হলেও সামরিক প্রস্তুতি কোনোভাবেই কমানো হয়নি।
ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবার থেকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরুর কথা জানান। এর পরপরই হেগসেথের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসে।
প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, পরিকল্পিত অভিযানের মাত্রা সম্পর্কে ইরান অবগত ছিল। তিনি বলেন, তারা হামলার ব্যাপকতা সম্পর্কে জানত, কারণ তারা এটি প্রস্তুত হতে দেখেছিল।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন কূটনীতির দিকে মনোযোগ দিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, এখন আমরা যা করছি, তা হলো তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কথা বলছি। এটি আগামীকাল (সোমবার) বিকালে শুরু হবে এবং এরপর আমরা দেখব কী হয়।
যদিও ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে, তবে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, আসন্ন এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—উভয় বিষয়ই প্রাধান্য পাবে। তিনি জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের নেতারা তাকে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান বাতিলের অনুরোধ করেছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল, এখনও একটি কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব।
ট্রাম্প আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে উভয় বিষয়েই চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তিনি বলেন, হরমুজ নিয়ে একটি চুক্তি হবে এবং এরপর পারমাণবিক ইস্যুতেও চুক্তি হবে।
তিনি আরও জানান, তার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ‘ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করা।’
সাম্প্রতিক এসব ঘটনাপ্রবাহ ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী কৌশলেরই ইঙ্গিত দেয়। একদিকে তারা সামরিক দিক থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রেখেছে, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করেছে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ উভয়ই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে—কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে বলপ্রয়োগের বিকল্প পথ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সব সময়ই খোলা থাকছে।
কমেন্ট