ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় মতো একসঙ্গে হেফাজত ইসলামকে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব: প্রধানমন্ত্রী
পাকিস্তানে ফের অভ্যুত্থানের শঙ্কা, মুনিরের ঘনিষ্ঠের বিস্ফোরক মন্তব্য
পাকিস্তানের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কাজেও নজর রাখছেন তিনি। একই সঙ্গে বর্ষা মোকাবেলায় দেশের প্রস্তুতিও দেখছেন।
পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের দায়িত্বও তার হাতে। দেশটির তিন বাহিনীর কার্যত প্রধানও তিনি। তিনি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে তাকেই দেখা হয়।
প্রশ্ন উঠছে, এত কিছু যদি তার নিয়ন্ত্রণেই থাকে, তাহলে সরাসরি দেশের শাসনভারও তিনি নেবেন না কেন?
পাকিস্তানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি এখন একের পর এক দায়িত্ব নিজের হাতে নিচ্ছেন। তার ক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। এখন তার হাতে নেওয়ার মতো বড় দায়িত্ব বলতে আর একটি বিষয়ই বাকি—সরাসরি দেশের শাসন। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভির সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য এই প্রশ্ন আরো জোরালো করেছে।
তার মন্তব্যের পর পাকিস্তানের পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান বা সামরিক আইন জারির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গত এক বছরে পাকিস্তানের বেসামরিক সরকারকে অনেকটাই দুর্বল মনে হয়েছে। ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেহবাজ শরিফ থাকলেও কূটনীতি, দেশের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের বড় সিদ্ধান্তগুলো আসছে রাওয়ালপিন্ডি থেকে।
শেহবাজ শরিফের সরকারের আড়ালে থেকে এসব সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব রাখছেন আসিম মুনির।
এদিকে পাকিস্তান একসঙ্গে নানা সংকটে পড়েছে। দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় বিদ্রোহ চলছে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরেও মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সেখানে অস্থিতিশীলতা ও দুর্বল শাসনব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। এর পাশাপাশি পাকিস্তানের ক্ষমতাকেন্দ্রের দমন-পীড়নের খবর যাতে বাইরে না যায়, সে জন্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওপরও নানা বিধি-নিষেধ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। দেশটির ইতিহাসে একাধিকবার সামরিক বাহিনী সরাসরি ক্ষমতা নিয়েছে। আর এখন সামরিক বাহিনীর প্রধানই আবার দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। আসিম মুনির এখন প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই নজর রাখছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোহসিন নাকভি আবার বলছেন, পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থা ‘ভেঙে পড়েছে’। তাহলে কি পাকিস্তানে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান আসছে?
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর পাকিস্তানে চারবার সামরিকভাবে ক্ষমতা দখলের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতা নেন। ১৯৬৯ সালে তাকে সরিয়ে ক্ষমতা নেন ইয়াহিয়া খান। ১৯৭৭ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টোকে সরিয়ে ক্ষমতা নেন জিয়া-উল-হক। ১৯৯৯ সালে নওয়াজ শরিফকে সরিয়ে ক্ষমতা নেন জেনারেল পারভেজ মোশাররফ। এর মধ্যে ১৯৫৮, ১৯৭৭ ও ১৯৯৯ সালে নির্বাচিত বেসামরিক সরকার সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাবেক ভিন্নমতাবলম্বী এবং বর্তমানে ইউটিউবার আদিল রাজা দাবি করেছেন, দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা সেনাবাহিনী চূড়ান্ত করেছে।
এক ইউটিউব ভিডিওতে তিনি বলেন, আসিম মুনির প্রেসিডেন্ট এবং মোহসিন নাকভি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তবে এর পাশাপাশি একটি ‘গণতান্ত্রিক আবরণ’ রাখা হবে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক আয়েশা সিদ্দিকা মনে করেন, মুনিরের সামনে এখন দুটি পথ। তার ভাষায়, মুনিরের উচিত হয় ‘বাড়ি ফিরে যাওয়া এবং সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া’, নয়তো সরাসরি জনগণের সামনে এসে সামরিক আইন জারি করা। আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, পেছন থেকে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থার সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানে মুনিরের ক্ষমতা বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হতে থাকে। পরে ইমরান খান কারাগারে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরো বদলে যায়।
ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর মুনিরের ক্ষমতা আরো বেড়েছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। ওই সময় তিনি নিজেকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করেন। একই সঙ্গে নিজের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ আরো শক্ত করেন। এর মধ্যে মুনিরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোহসিন নাকভি পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থা ‘ভেঙে পড়েছে’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর এই বক্তব্য সামরিক ক্ষমতা দখলের জল্পনাকে আবারও উসকে দিয়েছে। নাকভিই সেই ব্যক্তি, যার কাছে এখনো ভারতের এশিয়া কাপের ট্রফি রয়েছে। তিনি ট্রফিটি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি একসময় সিএনএনের সাংবাদিক ছিলেন। তাকে আসিম মুনিরের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন হিসেবে দেখা হয়।
রাজনীতিতে তার কোনো বড় অভিজ্ঞতা ছিল না। তারপরও পাকিস্তানের ক্ষমতার বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে তার প্রভাব অনেক। সিনেটের মাধ্যমে শেহবাজ শরিফের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না। তাই নাকভিকে অন্য মন্ত্রীদের সঙ্গে একইভাবে দেখা হয় না। তিনি ক্ষমতাকেন্দ্রের খুব কাছের একজন ব্যক্তি। নাকভি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেরও প্রধান। মুনির ও শেহবাজ শরিফের কার্যালয়ের পর এটিকে পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ হিসেবে দেখা হয়। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নাকভি বলেন, পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থা কার্যত ‘ভেঙে পড়েছে’। তার মতে, দেশ আর আগের মতো স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না।
নাকভি অবশ্য সরাসরি সামরিক শাসনের কথা বলেননি। কিন্তু তিনি মুনিরের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হওয়ায় তার এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-ফজলের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান নাকভিকে নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, ‘নাকভি সাহেব আমাদের সন্তানের মতো। কিন্তু সময়ের আগেই বড় হয়ে গেছেন।’ এর কয়েক সপ্তাহ আগে নাকভি ক্ষমতাকেন্দ্রকে ‘ইউনিফর্ম খুলে রাজনীতিতে নামার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরপরই ফজলুর রহমান ওই মন্তব্য করেন। পাকিস্তানে মুনিরের ক্ষমতা বাড়ার সময়ই নাকভির রাজনৈতিক উত্থান হয়েছে। এ কারণেই তর বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের লেখক ও ডন-এর কলামনিস্ট ইউসুফ নজর বলেন, ‘গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিদেরা স্বাভাবিকভাবেই মোহসিন নাকভির দিকে নজর দিয়েছেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসলে ক্ষমতাকেন্দ্রের হয়ে কথা বলেন। আরো নির্দিষ্ট করে বললে, তিনি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের হয়ে কথা বলেন।’ নজরের মতে, পাকিস্তানের ক্ষমতার কাঠামোর ওপর মুনিরের বাড়তে থাকা নিয়ন্ত্রণ থেকে নাকভির বক্তব্যকে আলাদা করে দেখা যায় না। তিনি আরো বলেন, ‘এত বেশি ক্ষমতা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে নেওয়ার মাধ্যমে ফিল্ড মার্শাল একটি বড় ঐতিহাসিক দায়িত্বও নিজের ওপর নিয়েছেন। ব্যবস্থা যদি সত্যিই ভেঙে পড়ে থাকে, তাহলে এর দায় থেকে ফিল্ড মার্শালের নিজেকে আলাদা করা অসম্ভব।’
নজর প্রশ্ন তুলেছেন, পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব কি দেশের আসল সমস্যাগুলো বুঝতে পেরেছে? তিনি বলেন, ‘মি. নাকভির বক্তব্যে আমি সন্তুষ্ট নই। দেশের সমস্যাগুলো কী, তা নিয়ে তার গভীর কোনো ধারণা আছে বলে আমার মনে হয়নি।’ নজরের মতে, পাকিস্তান আরও বড় কিছু কাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষমতা একটি ছোট অভিজাত গোষ্ঠীর হাতে থাকা। রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ক্ষমতা দেখানোর প্রবণতা। এ ছাড়া এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যেখানে ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা সরকারি পদকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করেন।
পাকিস্তানে সামরিক বাহিনী মূলত দুইভাবে ক্ষমতা নিয়েছে। প্রথমটি হলো সরাসরি সামরিক অভ্যুত্থান। এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর জেনারেলরা বেসামরিক সরকারকে সরিয়ে দেন। সংবিধান স্থগিত করা হয় বা পরিবর্তন করা হয়। এরপর সামরিক আইন জারি করা হয়। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান এভাবে ক্ষমতা নেন। ১৯৬৯ সালে ইয়াহিয়া খানও একই পথে যান। ১৯৭৭ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টোকে সরিয়ে ক্ষমতা নেন জিয়া-উল-হক। ১৯৯৯ সালে নওয়াজ শরিফকে সরিয়ে ক্ষমতা নেন পারভেজ মোশাররফ। পাকিস্তানে সামরিক আইন বলতে বেসামরিক সরকার ও সংবিধানের কার্যক্রম স্থগিত করে সেনাবাহিনীর সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনাকে বোঝায়। দ্বিতীয় পদ্ধতিটি সরাসরি দেখা যায় না। এটিকে বলা হয় নরম অভ্যুত্থান। অর্থাৎ সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে দেশ পরিচালনা না করেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে।
এই ব্যবস্থায় সংবিধান বহাল থাকে। নির্বাচন হয়। সংসদও কাজ করে। প্রধানমন্ত্রী আসেন এবং চলে যান। কিন্তু দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অন্য জায়গা থেকে নেওয়া হয়। পররাষ্ট্রনীতি, পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং দেশের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব থাকে। পাকিস্তান বেশ কিছু সময় ধরে এমন একটি হাইব্রিড শাসনব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন। এই ব্যবস্থা ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে ইমরান খানের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর মুনির নিজের ক্ষমতা বাড়াতে শুরু করেন। ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়। বেসামরিক নাগরিকদের সামরিক আদালতে বিচার করা হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে ইমরানের দলকে দুর্বল করা হয়। অন্যদিকে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির মধ্যে একটি জোট গড়ে ওঠে।
এসব ঘটনার পর মুনিরের ক্ষমতা আরো শক্ত হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন, রাওয়ালপিন্ডি আবারও পাকিস্তানের ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। পারভেজ মোশাররফের মতো মুনির এখনো একই সঙ্গে সামরিক পোশাক ও বেসামরিক সরকারি পদ নেননি। তবে সামরিক আইন জারি না করেও তিনি একই ধরনের ক্ষমতা ব্যবহার করছেন বলে সমালোচকেরা মনে করেন। এ কারণে মুনির ধীরে ধীরে সরাসরি ক্ষমতা নেওয়ার দিকে এগোচ্ছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আসিম মুনিরের বয়স এখন ৫৮ বছর। ফিল্ড মার্শাল হিসেবে তার অবসরের নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। সম্প্রতি পাকিস্তানের আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, মুনির কখন অবসর নেবেন, এমনকি তিনি আদৌ অবসর নেবেন কি না, সেটিও ফেডারেল সরকার ঠিক করবে। অর্থাৎ আপাতত তার সরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। মুনির সত্যিই পাকিস্তানকে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ও পাকিস্তানবিষয়ক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক শাসনের দিকে যেতে পারে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সি এম শেঠ মোহসিন নাকভির বক্তব্যকে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, নাকভির মন্তব্য ‘পাকিস্তানে সামনে কী ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, তার ইঙ্গিত’। তিনি আরো বলেন, ‘সম্ভবত মুনির দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেবেন এবং সামরিক আইন জারি করবেন।’ তবে মেজর জেনারেল শেঠ স্পষ্ট করেছেন, এটি তার নিজের মূল্যায়ন। এখন বড় প্রশ্ন হলো, পাকিস্তানে সামরিক অভ্যুত্থান সত্যিই কি আসন্ন? পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভিন্নমতাবলম্বী আদিল রাজা দাবি করেছেন, একটি সাত ঘণ্টার গোয়েন্দা সংস্থার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—এমন দুই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি তথ্য পেয়েছেন। তার দাবি, পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব মনে করছে, দেশের বর্তমান ব্যবস্থা ‘ভেঙে পড়েছে’। তাই তারা নতুন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আদিল রাজা আরো দাবি করেন, এই পরিকল্পনার জন্য রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করার দায়িত্ব মোহসিন নাকভিকে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ‘জোর করে’ সংবিধান পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং তার ছেলে ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে ‘নিরাপদে পাকিস্তান ছাড়ার সুযোগ’ দেওয়া হয়েছিল।
তবে মুনির শেষ পর্যন্ত সামরিক আইন জারি করে নিজের ক্ষমতাকে আনুষ্ঠানিক করবেন কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। আদিল রাজার দাবি অনুযায়ী, মুনির অনুগত একটি বেসামরিক সরকারের মাধ্যমে ক্ষমতা চালিয়ে যেতে পারেন।
কমেন্ট