সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের

সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। বুধবার স্থানীয় সময় দেওয়া এক ঘোষণায় গোষ্ঠীটি জানায়, লোহিত সাগরে একটি সামরিক পরিবহন জাহাজ এবং ইয়েমেনের ভেতরে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।


হুথিদের সামরিক মুখপাত্রের দাবি, এসব হামলায় বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। ইয়েমেনের মোচা এলাকা এবং মারিব প্রদেশের তাদাউইন শিবিরে সৌদি সমর্থিত সেনাদের অবস্থান, অস্ত্রের গুদাম ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হুথিদের দাবি, হামলাগুলো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এতে সৌদি নাগরিকসহ কয়েক ডজন মানুষ হতাহত হয়েছেন।


তবে হতাহতদের সঠিক সংখ্যা বা হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র বলেন, ইয়েমেন দখল এবং সেখানে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করছে- এমন সৌদি সেনা অবস্থানগুলোতে তারা অভিযান চালিয়ে যাবে।

 
হুথিরা তাদের বিরোধীদেরও সতর্ক করেছে। গোষ্ঠীটির অভিযোগ, ইয়েমেনের কিছু মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে তাদের ‘শত্রুদের’ সঙ্গে সহযোগিতা করছে।


এসব ব্যক্তিকে সৌদি আরবের সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে হুথিরা। একই সঙ্গে তারা যেসব কর্মকাণ্ডকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে উল্লেখ করেছে, সেসব থেকে সরে আসতে বলেছে। হুথিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ার আগে তাদের এই অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে।
হুথিদের হামলার ঘোষণার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি হুথিদের লড়াই বন্ধ করে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবার বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে আল-আলিমি বলেন, হুথিদের কোনো কর্মকাণ্ডের জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাদের কোনো কর্মকাণ্ডই নজরদারির বাইরে থাকবে না। তিনি আরো বলেন, হুথিদের সামনে এখনো রাজনৈতিক পথে ফেরার সুযোগ রয়েছে। তাদের অস্ত্র নামিয়ে রেখে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়া এবং অন্য ইয়েমেনিদের মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে পরপর দুই দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক দিন পর হুথিদের নতুন এই হামলার ঘোষণা এলো। ওই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। ইয়েমেন সরকার এ হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত হুথিদের দায়ী করেছে। ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাবার পরিবহনকারী ছোট কার্গো জাহাজ ‘তিহামাহ’কে লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হুথিরা। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। এতে চারজন নাবিক নিহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি এবং একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক ছিলেন। এ ছাড়া আরো চারজন নাবিক ও একজন উদ্ধারকর্মী আহত হন বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।

ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম হামলার পর জাহাজটির যাত্রী ও নাবিকদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করা হয়। তখন হুথিরা জাহাজটিতে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায়। মন্ত্রণালয় এই হামলাকে জাহাজে থাকা মানুষ এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। পরে ইয়েমেনের কোস্টগার্ড জানায়, নিহতদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মীও ছিলেন। জাহাজটির মালিকানা নিয়েও প্রথমে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ইয়েমেনের কর্মকর্তারা এবং সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা মারিস্কস জানিয়েছিল, সৌদি মালিকানাধীন একটি জাহাজে হামলা হয়েছে। তবে মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ‘তিহামাহ’ তানজানিয়ার পতাকা নিয়ে চলছিল। জাহাজটির মালিক ছিল মিসর ও ইয়েমেনে নিবন্ধিত কয়েকটি কোম্পানি।

এর আগে গত ৯ আগস্ট দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের আল-মোখা বন্দরে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছিল হুথিরা। আল জাজিরা ইয়েমেন টুডে টিভি ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সাবা টিভির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওই হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আল-মোখা বন্দরটি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত। হামলার পর হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তাদের বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই সমুদ্রবন্দরে বড় পরিসরে এবং নির্ভুলভাবে অভিযান চালিয়েছে। লোহিত সাগর ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজে একের পর এক হামলার ঘটনায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ইরানকে যে বার্তা দিলেন পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তী

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ইরানকে যে বার্তা দিলেন পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কমেন্ট