জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ‘মেনে নেওয়ার’ প্রস্তুতি নিতে বললেন ট্রাম্প

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ‘মেনে নেওয়ার’ প্রস্তুতি নিতে বললেন ট্রাম্প

 যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাতকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। একদিকে ওয়াশিংটনকে ‘পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে ইরান। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের জনগণকে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য মেনে নেওয়ার জন্য তৈরি থাকতে বলেছেন। খবর রয়টার্সের। 


আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী বলেন, হরমুজ প্রণালি কেবল ইরানের নির্দেশেই খোলা এবং বন্ধ করা হবে। যতদিন আপনারা পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে না নেবেন এবং দিবাস্বপ্ন দেখা বন্ধ না করবেন, ততদিন ইরান তার অবরুদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। কোনো টুইট বার্তা, বিমানবাহী রণতরী বা নির্বাচনের বক্তৃতা দিয়ে হরমুজ প্রণার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যাবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও শাহারারা নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বন্ধের আলোচনা পুনরারম্ভের কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহণ হওয়া এই নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই শর্ত পূরণ করতে হবে।

অন্যদিকে, স্থানীয় সময় শুক্রবার নিউ ইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি ‘অত্যন্ত দুষ্টু রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, একটি পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের নিশ্চয়তা পাওয়ার জন্য পেট্রোলের দর কিছুটা বেশি দেওয়া কোনো বড় বিষয় নয়।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্যানুযায়ী, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালনে দাঁড়িয়েছে ৪.০৮ ডলারে। তেলের বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির ফলে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।


শিপ-ট্র্যাকিং ফার্ম ‘কপলারের’ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে কোনো অপরিশোধিত তেলবাহী মাদার ভেসেল ছিল না। যেখানে সংঘাতের পূর্বে দৈনিক ১৩০টিরও বেশি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে এখন চলাচল প্রায় শূন্যের কোঠায় ঠেকেছে।

পরোক্ষ হামলার খবর দিয়ে ইউকেএমটিও জানায়, শুক্রবার হরমুজ প্রণালিতে একটি বাল্ক কেরিয়ারের গায়ে আঘাত হেনেছে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র। এছাড়াও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লোহিত সাগরের মোচা বন্দরে ৪ বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।

ইউক্রেনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নেই: রাশিয়া পরবর্তী

ইউক্রেনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নেই: রাশিয়া

কমেন্ট