প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ইউক্রেনকে গোপন ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির তথ্য দেবে যুক্তরাজ্য
ইউক্রেনে ব্রিটিশ-ফরাসি নকশার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য কিছু গোপন প্রযুক্তির তথ্য দেবে ব্রিটেন। এর ফলে ইউক্রেন নিজ দেশেই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে।
ফ্রান্স ও ইউক্রেন চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইউক্রেনে স্ক্যাল্প ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাজ্যে একই ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘স্টর্ম শ্যাডো’ নামে পরিচিত। ব্রিটিশ-নির্মিত বিভিন্ন যন্ত্রাংশের প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশের সিদ্ধান্তকে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউরোপীয় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমবিডিএ তৈরি স্ক্যাল্প একটি প্রচলিত ওয়ারহেড বহনকারী দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।
ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার অভ্যন্তরের লক্ষ্যবস্তুতে এটি ব্যবহার করা হয়।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, টার্বোজেট ইঞ্জিনচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার। এতে প্রায় ৪০০ কেজি ওজনের উচ্চ-বিস্ফোরক ওয়ারহেড বহন করা সম্ভব।
ক্ষেত্রবিশেষে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ক্ষেপণাস্ত্রটি বিভিন্ন নেভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এর মধ্যে রয়েছে ইনর্শিয়াল নেভিগেশন, জিপিএস ও ভূখণ্ডভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা। পাশাপাশি এতে ইনফ্রারেড সেন্সর ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য শনাক্ত করার প্রযুক্তিও রয়েছে।
স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের সু-২৪ ও মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা যায়। উড্ডয়নের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূখণ্ডের কাছাকাছি দিয়ে উড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।
ইউক্রেন এই ক্ষেপণাস্ত্র মূলত ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা, যেমন কমান্ড বাংকারে হামলার কাজে ব্যবহার করতে পারে।
এসব লক্ষ্যবস্তুতে হালকা ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো তুলনামূলক কঠিন। ইউক্রেনের ড্রোনগুলো সাধারণত তেল শোধনাগার, গুদাম ও অন্যান্য উন্মুক্ত স্থাপনায় হামলায় বেশি ব্যবহৃত হয়। ব্রিটেনের এই ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ অভিযোগ করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত করছে।
এর আগে গত সপ্তাহে লন্ডনে রুশ দূতাবাসও যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করেছিল। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটেনের সম্পৃক্ততা ও সমর্থন যত বাড়বে, তাদের তত বেশি মূল্য দিতে হবে। ব্রিটেন ও ফ্রান্স এখন পর্যন্ত ইউক্রেনকে কতটি স্ক্যাল্প বা স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে, তা প্রকাশ করেনি।
তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্মাতা এমবিডিএ ২০২৫ সালে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা উৎপাদন লাইনগুলো আবার চালু করে।
তৎকালীন ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু বলেছিলেন, ইউক্রেনকে সরবরাহ করা ফরাসি-ব্রিটিশ স্ক্যাল্প/স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র আধুনিক উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। তবে ব্রিটেনের নতুন ঘোষণার পরও ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, লন্ডন দীর্ঘ মেয়াদে ইউক্রেনকে সমর্থন করে যাবে।
ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করতে ব্রিটিশ প্রযুক্তির গোপন তথ্য প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সোমবার ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে কিয়েভ সফরে গিয়ে এ ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
বার্নহ্যাম বলেন, ইউক্রেনের জনগণের মনে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে যুক্তরাজ্য আজ এবং যত দিন প্রয়োজন, তাদের পাশে থাকবে। তিনি আরো বলেন, ‘ইউক্রেনের নিরাপত্তাই আমাদের নিরাপত্তা।’ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি বার্নহ্যামের প্রথম বিদেশ সফর।
সোমবার তিনি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পৌঁছান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এমবিডিএকে দীর্ঘপাল্লার স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত ব্রিটিশ উপাদান সম্পর্কে গোপন তথ্য প্রকাশের অনুমতি দেবে। এর ফলে ফ্রান্স ও ইউক্রেন দেশটির মাটিতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সংযোজন ও উৎপাদনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে। স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্রিটিশ স্ট্রম শ্যাডোর ফরাসি সংস্করণ এবং দুটিতেই ব্রিটিশ ও ফরাসি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।
কিয়েভ সফরে বার্নহ্যাম ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠকেও সহসভাপতিত্ব করবেন। ইউক্রেনকে সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা দিতে গঠিত এই জোটে ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ একাধিক মিত্র দেশ রয়েছে।
কমেন্ট