মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা পাকিস্তানের, ‘নাটক’ বলল ভারত

মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা পাকিস্তানের, ‘নাটক’ বলল ভারত

জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। তাকে ধরার জন্য তথ্য দিলে পুরস্কার হিসেবে ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি দেওয়া হবে।


কিন্তু ইসলামাবাদের এ ঘোষণাকে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে আর লোক-দেখানো ঘোষণা নয়, করতে হবে ‘বাস্তব এবং কার্যকর পদক্ষেপ’। দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।
ধারণা করা হচ্ছে, ফাইন্যানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) অক্টোবরের বৈঠককে সামনে রেখে পাকিস্তান এ উদ্যোগ নিয়েছে।


এফএটিএফের গ্রে লিস্টে যেন পাকিস্তানকে আবার না রাখা হয়, সেজন্যই দেশটি এ পদক্ষেপ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ ধরনের নাটক এবং মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা পাকিস্তানের নতুন নয়। অতীতেও আমরা একই ধরনের নাটক দেখেছি ।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র যখন সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক, তখন এই ধরনের ভুয়ো ঘোষণা কতটা ফাঁপা, তা আমরা সবাই জানি।


পাকিস্তানকে লোক-দেখানো ঘোষণা না করে বাস্তব পদক্ষেপ করতে হবে। এই ঘোষণার কোনও গুরুত্ব নেই ।
মাসুদ আজহার ভারতের কাছে নতুন নাম নয়। ২০০১ সালের সংসদে হামলা থেকে ২০০৮-এর মুম্বাই হামলা, ২০১৬- এর পাঠানকোট বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা থেকে ২০১৯ পুলওয়ামা বিস্ফোরণ- একাধিক ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তান তাঁকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে।


ফেডেরাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) ‘রেড বুকেও’ মাসুদ আজহার এখনও মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত।
ইসলামাবাদের অবশ্য দাবি, মাসুদ পাকিস্তানে নেই। জইশ প্রধান আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়ে সেখান থেকেই সংগঠন চালাচ্ছেন। কিন্তু সেই দাবি নিয়েই এ বার ইসলামাবাদের সঙ্গে তালেবান সরকারের প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন, মাসুদ আজহার আফগানিস্তানে নেই। ফলে পাকিস্তানের পুরনো দাবির ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

তার মধ্যেই মাসুদের সন্ধান দিতে নতুন করে পুরস্কার ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও নজর পড়েছে ইসলামাবাদের দিকে। কারণ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠন ও তাদের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চাপ রয়েছে। সামনে রয়েছে ফাইন্যানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) পরবর্তী পর্যালোচনা। জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ রুখতে পাকিস্তান কতটা পদক্ষেপ করেছে, তা খতিয়ে দেখবে আন্তর্জাতিক এ নজরদারি সংস্থা।

২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এফএটিএফের ‘গ্রে লিস্ট’-এ ছিল পাকিস্তান। অর্থপাচার রোধে দুর্বলতা এবং সন্ত্রাসে অর্থের জোগান বন্ধ করতে ব্যর্থতার অভিযোগ ছিল মূলত। বিশেষ করে জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং লস্কর-ই-তইবার মতো জঙ্গি সংগঠন এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

তারেক রহমানকে আমন্ত্রণের বিষয়ে যা বলল ভারত পূর্ববর্তী

তারেক রহমানকে আমন্ত্রণের বিষয়ে যা বলল ভারত

ইরানের স্পাইওয়্যার নিয়ে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র-নেদারল্যান্ডসের সতর্কতা পরবর্তী

ইরানের স্পাইওয়্যার নিয়ে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র-নেদারল্যান্ডসের সতর্কতা

কমেন্ট