দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টের অভিমুখে বিরোধীদের মিছিলের ডাক
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করতে আজ সুপ্রিম কোর্টের দিকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস এই মিছিলের নাম দিয়েছে ‘চলো দিল্লি’।
এতে ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে।
নেতাদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিরোধীরা।
তবে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। পরিবর্তে তাদের লিখিত আবেদন জমা দিতে বলেছেন তিনি।
সূত্রের খবর, বিরোধীদের তোলা বিষয়গুলো ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছে বিরোধীরা।
সেই দাবিতে ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। যুব সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি) এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছে।
এদিকে দিল্লিতে বিরোধীদের মিছিল ঘিরে যান চলাচল ও নিরাপত্তায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রশাসন। মধ্য দিল্লি এবং মিছিলের পথে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রেও বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে মধ্য দিল্লিতে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে কয়েকবার আটক করা হয়। তবে তাদের অল্প সময়ের মধ্যেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। রবিবার যুব সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ চলবে। এর আগে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে মিছিলের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। যন্তর মন্তর রাজধানীর অন্যতম পরিচিত প্রতিবাদস্থল। সংগঠনটি এর আগেও সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিল।
তবে শনিবার প্রশাসনের কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে বিক্ষোভকারীদের পক্ষে যন্তর মন্তরে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়, বহু মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ জারি করা হয় এবং বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমান থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সংগঠনের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। এক দিন পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর অভিজিৎ দীপকে তার দাদির শেষকৃত্যে যোগ দিতে বাড়ি ফিরে যান। অন্যদিকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা সংবাদ সম্মেলন করে জানান, তাদের বিক্ষোভ চলবে। তবে রবিবারের বিক্ষোভে এই দুই নেতা অংশ নেননি। তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করতে পুলিশের কাছে আবেদন করবেন।
দিল্লিতে সপ্তাহান্তের বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষকে আটক করে পরে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও ছিলেন। বিক্ষোভের ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, নারীসহ অনেককে জোর করে টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলছে পুলিশ।
বিবিসির ধারণ করা একটি ভিডিওতে বাসের ভেতরে আটক এক বিক্ষোভকারীকে এক পুলিশ সদস্যের চড় মারার দৃশ্য দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও দিল্লি পুলিশ কোনো জবাব দেয়নি।
এদিকে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস অন্তত ১৬ জন ভারতীয় সাংবাদিককে আটকের নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, জনস্বার্থে ঘটে যাওয়া ঘটনা তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব, কোনো অপরাধ নয়। সংবাদমাধ্যমের ওপর পুলিশের এমন পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে আসা তরুণদের মারধর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ওই তরুণেরা ঘৃণা বা ক্রোধ নয়, বরং ভালোবাসা নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন বিরোধী দল ও প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির নির্দেশে ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। তবে কোন বিদেশি শক্তির কথা তিনি বলেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
কমেন্ট