বুলগেরিয়ার উপকূলে ড্রোন হামলায় জাহাজডুবি, নিখোঁজ ১১ নাবিক

বুলগেরিয়ার উপকূলে ড্রোন হামলায় জাহাজডুবি, নিখোঁজ ১১ নাবিক

বুলগেরিয়ার উপকূলে ড্রোন হামলায় একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে ১১ নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে দুটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে।


এক সপ্তাহের মধ্যে ওই এলাকায় এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী জাহাজডুবির ঘটনা।
বুলগেরিয়ার কর্মকর্তারা জানান, ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি জাহাজের একটি ডুবে গেছে। এ ঘটনার পর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বুলগেরিয়া। হামলার জন্য সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেনি দেশটি।


তবে বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমান রাদেভ বলেছেন, এ ঘটনার ফলাফল রাশিয়ার জন্য লাভজনক হতে পারে।
বুলগেরিয়ার উপকূলে পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে এ বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমান রাদেভ এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, দেশটির জলসীমার এত কাছে আবারও হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণ সাগরও সংঘাতের আরেকটি রণাঙ্গনে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, এ হামলা বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি মস্কোর অবজ্ঞার প্রমাণ। বুলগেরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্রাপেটস গ্রামের উপকূলে ডুবে যাওয়া জাহাজটির পাঁচ নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

জাহাজটিকে ‘আজভ কনকর্ড’ হিসেবে শনাক্ত করেছে দেশটির গণমাধ্যম।


একই রাতে মাল্টার পতাকাবাহী ‘চেলসি ৩’ নামের আরেকটি জাহাজে তিনটি ড্রোন আঘাত হানে।
জাহাজটির ১৫ নাবিক এর মধ্যে সাতজন ইউক্রেনীয় ও আটজন আজারবাইজানি এবং তাদের উদ্ধার হয়েছেন। তবে তারা কেউ গুরুতর আহত হননি। এদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, কৃষ্ণ সাগর বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার অভিযোগ, রাশিয়া খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে এবং বিশ্বকে চাপে রাখতে এ অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে।

এর আগে এক সপ্তাহ আগে কৃষ্ণ সাগরে ড্রোন হামলায় আরেকটি জাহাজ ডুবে যায়। ওই ঘটনায় নয়জন সিরীয় ও একজন মিসরীয় নাবিক নিখোঁজ হন। একই রাতে আক্রান্ত অন্য একটি জাহাজের নাবিকদের উদ্ধার করা হয়। ক্রমাগত এসব হামলায় কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের কারণে রাশিয়া ও ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড টিকিয়ে রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেন, দুই দেশই বিশ্বের অন্যতম প্রধান শস্য রপ্তানিকারক। রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি এখন দানিউব নদীর বন্দর এবং ন্যাটো সদস্য বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ার উপকূলের কাছাকাছি নৌপথের ওপর বেশি নির্ভর করছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনও কৃষ্ণ সাগরের বিভিন্ন এলাকায় এবং আজভ সাগরে রাশিয়ার শস্যবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ফলে উভয় দেশের শস্য রপ্তানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টের অভিমুখে বিরোধীদের মিছিলের ডাক পরবর্তী

দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টের অভিমুখে বিরোধীদের মিছিলের ডাক

কমেন্ট