ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সাইবার হামলায় ফ্রান্সের সুপারমার্কেটের ফ্রিজ বিকল, নষ্ট বিপুল খাবার
ফ্রান্সের একাধিক সুপারমার্কেটে সাইবার হামলার কারণে ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা বেড়ে বিপুল পরিমাণ খাবার নষ্ট হয়েছে। কয়েকটি স্থানে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে।
এ ঘটনায় কয়েক কোটি ইউরোর ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে একটি সুপারমার্কেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী। হামলার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
প্যারিসের প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি বড় খাদ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট-সংযুক্ত রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থা এ হামলায় আক্রান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
সুপারমার্কেট চেইন ইন্টারমার্শের মালিক প্রতিষ্ঠান লে মুস্কেতেয়ার্স জানিয়েছে, তাদের প্রায় ১৫০টি দোকানের ফ্রিজ টানা ছয় ঘণ্টা আক্রান্ত হয়। এ সময় তাপমাত্রা বেড়ে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে নষ্ট হওয়া খাবার ফেলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী থিয়েরি কোটিলার্ডের দাবি, এক দিনেই কয়েক কোটি ইউরোর ক্ষতি হয়েছে।
এ ছাড়া ক্যারফুরের ৮০টি দোকান আক্রান্ত হয়েছে। মনোপ্রি জানিয়েছে, তাদের প্রায় ৫ শতাংশ দোকান এ ঘটনার শিকার হয়েছে। কোঅপারেটিভ ইউ সুপারমার্কেট গ্রুপও হামলার কথা নিশ্চিত করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি দোকান এরই মধ্যে আবার চালু হয়েছে।
প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ড্যানফস জানিয়েছে, আক্রান্ত কয়েকটি রেফ্রিজারেশন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় পুরোনো ফার্মওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছিল।
প্রতিষ্ঠানটি সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। তবে পুরোনো সফটওয়্যারের নিরাপত্তা দুর্বলতার সঙ্গে এই হামলার সরাসরি যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে নেদারল্যান্ডসের সুপারমার্কেট প্রতিষ্ঠান আহোল্ড ডেলহেইজও তাদের নেটওয়ার্কে নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কথা জানিয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা কয়েকটি সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে আলবার্ট হেইনের অনলাইন পণ্য সরবরাহ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ফ্রান্সের হামলার সঙ্গে তাদের সমস্যার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক ফেলিক্স আইমের দাবি, স্পেন, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, জার্মানি ও বেলজিয়ামেও এ হামলার প্রভাব পড়েছে। তবে এসব দেশে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। ফরাসি কর্তৃপক্ষ ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চালাচ্ছে।
কমেন্ট